২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আর আওয়ামী লীগর বিরুদ্ধে মাত্র ২০ মাসেই লক্ষাধিক মামলা—এই তুলনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক হয়রানির একটি চরম উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বিএনপির ক্ষেত্রে:
২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত (প্রায় ১৮ বছর) বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে এ তথ্য দিয়েছেন। বিএনপির দাবি অনুসারে এগুলো মূলত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা, যাতে আসামির সংখ্যা লাখ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অনেক নেতা-কর্মীকে একাধিক মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন জেলে রাখা হয়েছে, আন্দোলন দমন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে:
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের (প্রায় ২০ মাসের মধ্যে) আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক (১ লাখেরও বেশি) মামলা দায়ের হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
সরকার পতনের পরপরই জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদি অভিযোগে বিপুল সংখ্যক মামলা হয়।
একটি রিপোর্ট অনুসারে, প্রথম কয়েক মাসেই ১,১৮১টি FIR-এ প্রায় ৯৮ হাজার আসামি করা হয় (যার মধ্যে অনেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী)।
শেখ হাসিনার নামে একাই ১০০টির বেশি মামলা, সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে গণ-অভিযোগ আকারে শত শত নাম একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তুলনামূলক চিত্র:
বিএনপি: ১৮-২০ বছরে ~১.৪৩ লাখ মামলা (প্রতি বছর গড়ে ~৭-৮ হাজার)।
আওয়ামী লীগ: মাত্র ২০ মাসে লক্ষাধিক মামলা (প্রতি মাসে গড়ে ৫ হাজারেরও বেশি)।
এই তুলনা দেখায় যে, ক্ষমতায় থাকাকালীন একদল যেভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলার জাল বিছিয়েছিল, ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সেই দলটিই এখন একই ধরনের (বা আরও তীব্র) প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে।
রাজনীতিতে প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকলে দেশের আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব রাজনৈতিক মামলা যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যিকারের অপরাধীদের বিচার—এটাই একমাত্র সুস্থ পথ। অন্যথায় এই চক্র কেবল ঘুরপাক খেতে থাকবে।
এটি কোনো দলের পক্ষ-বিপক্ষ নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অসুস্থতারই প্রতিফলন বলে দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।