নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় এক বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও গরুর বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়ক হয়ে বাসস্টেশনস্থ ক্যানডল–৭১ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আব্দুস শুকুর, সহ-সভাপতি আকতার উদ্দিন বাবুল এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন মেম্বারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তাদের বক্তব্য
সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই বেঈমানি করা যাবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রকামী শক্তিকে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাহমুদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ দেখিয়েছে। আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আব্দুস শুকুর বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল হোসেন মেম্বার বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে যুবদল জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
গণমিছিল ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির কোম্পানি, পোকখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ. এইচ. সেলিম উল্লাহ, ঈদগাঁও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অহিদুর রহমান কোম্পানি, জালালাবাদ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম কোম্পানি, পোকখালী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল, ইসলামাবাদ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক এবং ইসলামপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফখরুদ্দিন ফরাজী (কাজল), হাফেজ দিদারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, হামিদুল হক হামিদ, মোকতার আহমদ, শফিউল আলম তাজ, বেলাল উদ্দিন, আবু হেনা, মিজানুর রহমান মিজান, মো. আলমগীর, আনিসুর রহমান, সোহেল রানা, সাদেকুর রহমান, আব্দুল জব্বার, ইউনুছ সওদাগরসহ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।