ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬), সংসদের প্রথম দিনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতা—মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী—এবং বিএনপির সাবেক নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম যুক্ত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
সিপিবির নিন্দা: ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধে জড়িত দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। এটি ক্ষমার অযোগ্য বলে তারা মন্তব্য করেছে।
বাসদের অভিমত: ‘কলঙ্কময় নজির’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সংসদে কলঙ্কময় নজির স্থাপন করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ: ‘শহীদদের সাথে প্রতারণা’
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করে তাদের মহিমান্বিত করা হয়েছে, যা লাখো শহীদের সাথে প্রতারণা। সংগঠনটি এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্যান্য বাম-প্রগতিশীল সংগঠনও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম অপসারণের দাবি উঠেছে।