
ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বসহ অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের আমলে দলটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ থাকায় নেতা-কর্মীরা বেকায়দায় পড়েন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করে। এরপর থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির ছোঁয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের পরবর্তী দিনগুলোতে অন্তত ২০টিরও বেশি দলীয় কার্যালয় খোলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
দলের বিভিন্গ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে প্রকাশ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন। পেশাজীবী নেতৃত্বও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করে দাবি-দাওয়া তুলে ধরছেন। পঞ্চগড়, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে স্লোগান, পতাকা উত্তোলন ও অবস্থান কর্মসূচির খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতেও এসব ঘটনা ঘটেছে, যদিও পরবর্তীতে কিছু কার্যালয়ে পাল্টা হামলা বা বন্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দলের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হতো। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় আসেন, যখন দেশে খেলাপি ঋণের সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব তীব্র ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের অধীনে রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। তবে দলটির কার্যক্রম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ থাকায় এসব তৎপরতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারের নীতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর মনে করে সাধারণ জনগণ।