মিসবাহ উল্লাহ টেকনাফ :
কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ট্যুরিস্ট জিপ উল্টে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকবাহী একটি জিপ (স্থানীয়ভাবে ‘চান্দের গাড়ি’ নামে পরিচিত) দ্রুতগতিতে টেকনাফের দিকে যাচ্ছিল। শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং জিপটি সড়কের ওপর উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনায় জিপে থাকা একাধিক পর্যটক ও যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আহতদের নিকটস্থ হাসপাতাল ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
দেশজুড়ে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌন্দর্য বিখ্যাত হলেও এটি এখন যেন এক মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পর্যটননির্ভর এই সমুদ্র উপকূলীয় সড়কে প্রায়ই ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও তা যেন কেবল সংবাদের শিরোনাম হয়েই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভ সড়কে অনভিজ্ঞ চালক, পর্যটকবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ফিটনেসবিহীন জিপ চলাচলের কারণেই এসব দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে। এছাড়া দীর্ঘ এই রুটটিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নজরদারি ও সড়ক নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। জনমনে এখন তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—আর কত প্রাণ গেলে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? এমন দুর্ঘটনার দায় শেষপর্যন্ত কার?
দুর্ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মেরিন ড্রাইভ সড়কে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থা, অনভিজ্ঞ ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন বাতিল করার জোর দাবি উঠেছে।
নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। মেরিন ড্রাইভের মতো দৃষ্টিনন্দন সড়ক যেন আর কোনো স্বজন হারানোর কান্না বা অকাল মৃত্যুর কারণ না হয়ে দাঁড়ায়—তার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।