২৮,০১,২৬ ইং: শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত এক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় উভয় দলের নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জামায়াতের কর্মীরা অযৌক্তিকভাবে চেয়ার দখলের চেষ্টা করায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। অন্যদিকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা দাবি করেছেন, বিএনপির লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।