ঢাকা, ১৭ জুন: জাতীয় সংসদে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিমের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাবা শহীদ হয়েছেন দাবি করলেও, হলফনামা অনুযায়ী তার জন্ম মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পর হওয়ায় এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরে বলেন:
আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
সংসদে দেওয়া এই আবেগঘন বক্তব্যের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচনী হলফনামা এবং অনলাইন মুক্তবিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সেই হিসেবে নির্বাচনকালীন মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন।
নেটিজেনদের প্রশ্ন— ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি তার বাবা শহীদ (মারা) হয়ে থাকেন, তবে তার ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম কীভাবে সম্ভব?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি প্রকাশে আসার পর থেকেই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলছে তীব্র সমালোচনা ও ট্রল। অনেকেই সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যকে “গণিত ও বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য এক অলৌকিক ঘটনা” বলে উপহাস করছেন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো তথ্য দেওয়ার আগে জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া উচিত।
এই বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্টীকরণ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুলবশত তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।