নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট ২০২৬,
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অতুলনীয় হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর শাসনামলের ব্যর্থতা ও স্বৈরাচারী রূপকে কোনোভাবেই আড়াল করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী শাসনকাল নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আগেও বলতাম, এখনো বিশ্বাস করি, উনার জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে উনার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং ভিন্নমতের প্রতি বঙ্গবন্ধুর স্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল, যার প্রমাণ ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও স্পষ্ট।
তবে স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “বঙ্গবন্ধু দেশ পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন না। ১৯৭১-পরবর্তী বাংলাদেশ পরিচালনা করাও নানা কারণে অত্যন্ত দুরূহ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ১৯৭২ সাল থেকে তাঁর ক্রমে ক্রমে আরও অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হওয়াকে জাস্টিফাই করে না।” তিনি যুক্ত করেন, সে সময়কার দুর্ভিক্ষ, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবতাকে কোনো কিছু দিয়েই ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।
সবশেষে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, “উনার কয়েক বছরের দুঃশাসনের স্মৃতি মনে রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বহু মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। আমি তাদের একজন।”