
৪ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশে শিশুদের হাম (measles) থেকে পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া থাকলেও ১৫ মাস বয়সে অবশ্যই দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ দিতে হবে।
বাংলাদেশের ইপিআই (Expanded Programme on Immunization) কর্মসূচি অনুসারে, শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রথম ডোজ শিশুকে প্রাথমিক সুরক্ষা দিলেও, দ্বিতীয় ডোজ দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই ডোজ টিকা নিলে হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা ৯৭-৯৯% পর্যন্ত পৌঁছায়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে আবার বুস্টার ডোজ না দিলে শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা জ্বর, কাশি, ফুসকুড়ি এবং ক্ষেত্রবিশেষে কানে, ফুসফুসে বা মস্তিষ্কে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
কী করবেন অভিভাবকরা?
শিশুকে অবিলম্বে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে বা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে বুষ্টার ডোজ টিকা দিন।
টিকার কার্ড সংরক্ষণ করুন এবং নির্ধারিত তারিখ মনে রাখুন।
যদি শিশুর বয়স ১৫ মাসের বেশি হয়ে থাকে এবং বুস্টার ডোজ না নিয়ে থাকে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকা দিন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় এই টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকা হলো সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়। শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা ও সময়মতো টিকা প্রদান অত্যন্ত জরুরি।