
ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যা বিদ্যুৎ খাতকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করতে যাচ্ছে। রমজানের পরপরই সেচ মৌসুম এবং গ্রীষ্মকালে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও, এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমান অনুসারে, এ বছর সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে। নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পুরোদমে চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “বিদ্যুৎ খাতকে সম্পূর্ণভাবে আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা-পাওনা রয়েছে। জ্বালানি নেই, তাই আমদানি করতে হবে। মোটকথা, পরিস্থিতি খুবই জটিল। কাজ করে এগুলো সমাধান করতে হবে।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংকট কাটাতে সরকারকে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ জ্বালানি আমদানি সরাসরি দেশের ডলারের মজুদকে প্রভাবিত করবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “সাধারণত আমরা দেখি, গরম পড়লে প্রচুর লোডশেডিং হয়। এবারও তেমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা যোগ করে মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে। সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৯৪ লাখ। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে ২৩ জুলাই ২০২৫-এ, যা ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেনা-পাওনা, জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক অস্থিরতাকে চিহ্নিত করছেন। নতুন সরকারের সামনে এখন প্রধান কাজ হলো এই জটিলতাগুলো সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহকে স্থিতিশীল করা, যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত না হয়।