কক্সবাজার: মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজায় জীবন্ত প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ বন) কেটে অবৈলভাবে চিংড়ি ঘের তৈরির ঘটনায় অবশেষে ৩০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ।
মহেশখালী রেঞ্জের ঘটিভাঙ্গা বিটের বিট কর্মকর্তা বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- ০৫। থানার ওসি মোঃ আব্দুস সুলতান মামলাটি রুজু করেন এবং এসআই কাজল দাশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলায় ১৯২৭ সনের বন আইন (সংশোধিত ২০০০) এর ২৬(১) ও (২ক) উপধারার (ক)(খ)(ঘ)(ড) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা।
প্রধান আসামিরা:
কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট শেখ কামাল
ঘটিভাঙ্গা মেম্বার মোঃ ছিদ্দিক রিমন
বড় মহেশখালী সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা চৌধুরীর সন্তান মহসিন আনোয়ার চৌধুরী ও মোস্তফা আনোয়ার চৌধুরী
ডাঃ আমিন শরীফের পুত্র মোঃ শমসের
সাবেক যুবলীগ নেতা সাজেদুল করিম
গোরকঘাটা সিকদার পাড়ার অধ্যক্ষ ছৈয়দুল হক সিকদার
মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকসুদ মিয়ার ভাই কাইছার সিকদার
ঘটিভাঙ্গা সাবেক মেম্বার নুরুল আমিন খোকা
সোনাদিয়ার বর্তমান মেম্বার একরামুল হক
আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ আনজু মিয়া
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ভাই মোঃ শাহেদ
কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবি আলম
এছাড়া কালু মিয়া, মুবিনুল ইসলাম, মারুফুল ইসলাম, ওসমান আলী, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আমিন, ইমতিয়াজ উদ্দিন নকিব, নজরুল ইসলাম, সাজ্জাদ, নাজিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, শামশুল আলম, আবদুর রহিম, আব্বাস মিয়া, আজিজুল হক, নুরুল আজিম, মোহাম্মদ রফিকসহ আরও অনেকে।
মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ঈদুল ফিতরের পর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় আসামিরা সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা মৌজার ৫ হাজার একরেরও বেশি জীবন্ত প্যারাবন কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, স্কেভেটার দিয়ে মাটি কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করেন। এতে উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তবে কিছুদিন পরেই তারা ফের সংঘবদ্ধ হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সস্তায় শ্রমিক এনে প্যারাবন নিধন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে আসামিদের অর্থায়নে তৈরি চিংড়ি ঘের, খামারবাড়ি ও স্কেভেটার জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।
পরিবেশগত উদ্বেগ
প্যারাবন উপকূলীয় এলাকার ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এ ধরনের নিধন কার্যক্রম চলতে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা বিপন্ন হবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্যারাবন পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।