
ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও লক্ষ্য
এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা (প্রাথমিকভাবে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা) প্রদান করা হবে। সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছানো হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারের স্বচ্ছলতায় ভূমিকা রাখবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সামাজিক ভাতার তুলনায় এখানে সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে। সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ৪-৫ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা।
আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। প্রথমে ৮টি বিভাগের ৮টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু হবে (ঈদের আগে বিতরণ শুরুর লক্ষ্য)। পরে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয়ের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমানো যায়। অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি চলছে, যাতে ঘরে বসে আবেদন করা যায়। প্রতি পরিবারে শুধু একটি কার্ড ইস্যু করা হবে।
আবেদন করতে যা যা লাগবে (প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সংগ্রহ করে রাখুন):
১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ফটোকপি।
২. পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি।
৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর (সহায়তা পাঠানোর জন্য)।
আবেদন কোথায় করবেন
পাইলট প্রকল্প চলাকালীন ও পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে। অনলাইন পোর্টাল চালু হলে সেখান থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, হতদরিদ্র, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও নারী-প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কার্ড বিতরণ করা হবে।
এই কর্মসূচি নিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট বা প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকারি কর্তৃপক্ষ। অফিসিয়াল তথ্যের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।