
১১ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থায় নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের অভিযোগ ক্রমাগত বাড়ছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে—
কারাগার কি শুধুমাত্র সংশোধনের স্থান নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেয়ার একটি গোপন হাতিয়ার? সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলোতে উঠে এসেছে যে, গত বছরের মধ্যে কাস্টোডিতে মৃত্যু, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকে চলে আসা একটি প্যাটার্নকে নির্দেশ করে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলেছে, বাংলাদেশে কারাগার এবং হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা “একটি ব্যাপক এবং সিস্টেম্যাটিক সংস্কৃতি”র অংশ, যা রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার জন্য ব্যবহার হয়েছে।এইচআরডব্লিউ-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের মধ্যে অনেকেই কারাগারে অথবা গোপন হেফাজত কেন্দ্রে নির্যাতিত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকেও মুক্তি দেয়া হয়। সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত, যারা বিদ্যুৎশক, জলপানি (ওয়াটারবোর্ডিং) এবং অন্যান্য নির্মম পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (এএসকে) এর তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে কাস্টোডিতে নির্যাতনের ফলে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা একটি “অব্যাহত সংস্কৃতি”র প্রমাণ।এএসকে-এর মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এসব মৃত্যুতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি কাজ করছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে উস্কে দিচ্ছে। তারা দাবি করেছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কারাগারকে একটি প্রতিশোধের মাধ্যমে পরিণত করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)ও এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তাদের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলা শুরু হয়েছে, যা “মানবতাবিরোধী অপরাধ” হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুসারে, গত বছরের বিপ্লবের পরও কাস্টোডিতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে নির্যাতন এবং গুলির কারণে মৃত্যু হয়েছে।মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, “কারাগার এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটি স্থান হয়ে উঠেছে, যা মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলোকে লঙ্ঘন করছে। আমরা স্বাধীন তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।”
ইন্টারিম সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে যে, তারা জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে একটি কমিশন গঠন করেছে এবং জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতা করছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এখনও বাস্তব পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। এই পরিস্থিতিতে, কারাগার ব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে এটি সত্যিকারের সংশোধনের স্থান হয়ে ওঠে, না যেন রাজনৈতিক খেলার মাঠ।