কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার পর্যটন শহরের কলাতলীতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি খাস জমিতে রাতারাতি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় ওশান প্যারাডাইস সংলগ্ন কোটি কোটি টাকা মূল্যের ‘বাতিলকৃত প্লটে’ টিনের বেড়া দিয়ে এসব স্থাপনা গড়ে তুলছে একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্র। ইতোমধ্যে অবৈধ এসব দোকান থেকে লাখ লাখ টাকা ‘সেলামি’ বাণিজ্য করারও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলাতলী পুলিশ বক্স থেকে ওশান প্যারাডাইস পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের পাশে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ভেতরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। বেড়ার ভেতরে ইতোমধ্যে বৈশাখী রেস্তোরাঁ, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ফরিদ ট্রাভেলস, বৈশাখী বাস কাউন্টার, স্টার ট্রাভেলস লি., এস আই এন্টারপ্রাইজ, গ্রিন সেন্টমার্টিন এক্সপ্রেস, বেঙ্গল পরিবহন, আইকন পরিবহন ও স্বপ্ন তরীসহ ১১টি কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি ও চায়ের দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৯টি দোকানের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যার মধ্যে ১০টির কাজ প্রায় শেষ।
ঘটনাস্থলে ঝুলানো সাইনবোর্ডে দেখা যায়, বিএস ১ নম্বর খতিয়ানের ৩০ নম্বর প্লটের (দাগ নং ২০০০৩) জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং উচ্চ আদালত সেখানে ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করেই ক্ষমতার দাপটে জমিটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে প্রসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আব্দুল্লাহর নামে বরাদ্দকৃত এই ৩০ নম্বর প্লটটি সরকার বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করে। পরবর্তীতে চক্রটি এই জমির একাংশে প্রায় ২০টি দোকান বানিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্প্রতি নতুন করে গড়ে তোলা দোকানগুলো থেকে প্রতিটিতে ১২ লাখ টাকা অগ্রিম ‘সেলামি’ এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
গত ২০২৫ সালের ৮ মে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ডলফিন মোড়ে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অনেক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও রহস্যজনকভাবে এই বৈশাখী রেস্তোরাঁ ও তৎসংলগ্ন অংশ অক্ষত থেকে যায়। এবারও একই স্থানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন সমাজ। তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পর্যটন এলাকার সরকারি জমি দখলের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের প্রতি চরম বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) মশিউর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন দ্রুত আইনি ও উচ্ছেদ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।