নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটিতে পোকখালী ইউনিয়ন থেকে কোনো প্রতিনিধি বা ক্রীড়া সংগঠকের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পোকখালী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন একাধিক ক্রীড়া সংগঠক ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে পোকখালীর কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। এদিকে, কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশও দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। কার ইন্ধন, প্রভাব বা সুপারিশে এ ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সব ইউনিয়নের ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক খেলোয়াড় ও দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়াপ্রেমীদের ভাষ্য, যারা দীর্ঘদিন মাঠে থেকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত, ক্রীড়া সংগঠনের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে—কমিটিতে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। খেলাধুলার সঙ্গে বাস্তব কোনো সম্পৃক্ততা বা অভিজ্ঞতা নেই—এমন ব্যক্তিদের হুট করে গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় শিগগিরই কমিটিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্রীড়ামোদী, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সংশ্লিষ্টতা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাশাপাশি উপজেলার সব ইউনিয়নের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও জরুরি।
তাদের দাবি, পোকখালী ইউনিয়ন থেকেও একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ক্রীড়া সংগঠককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রীড়ামোদী, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পোকখালী ইউনিয়নের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।