ঈদগাঁও প্রতিনিধি
কক্সবাজার রামু ঈদগাঁও বাজারে হঠাৎ করেই সবুজ সবজির ঊর্ধ্বমুখী দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। মাছ-মাংসের পর এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে ঈদগাঁও বাজারের পশ্চিম গলির কাঁচা তরকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮০ টাকা, বেগুন ১৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, তিত করলা ১২০ টাকা এবং কচুর ছড়া ৮০ টাকায়। তবে কিছু ব্যবসায়ী একই সবজি কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা কম দামে বিক্রি করছেন।
বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দামই কেজিপ্রতি ১০০ টাকার নিচে নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও প্রয়োজনমতো সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই এক কেজি বা আধা কেজির পরিবর্তে মাত্র এক পোয়া বা তারও কম পরিমাণ সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
দিনমজুর তাহের বলেন, “দৈনিক যে আয় করি, তার চেয়ে ব্যয় বেশি। খেটে খাওয়া মানুষের শেষ ভরসা ছিল সবজি, সেটির দামও এখন নাগালের বাইরে। আমরা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছি।”
টমটম চালক শুক্কুরসহ কয়েকজন চালক জানান, তিন চাকার যানবাহন চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে চাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পর মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজি কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে সবজির অতিরিক্ত দাম তাদের সংসারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এক প্রবীণ ক্রেতা বলেন, আগে এক কেজি বা আধা কেজি সবজি কিনলেও এখন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম কিনতে হচ্ছে। বাজারে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সবজির দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না।
এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।
সচেতন মহল কাঁচাবাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।