
বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি নাশকতার মামলা ও তার ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উখিয়ার পালংখালীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন বৈঠক ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হলেও অভিযোগ উঠেছে, মূল পরিকল্পনাকারীরা অধরাই রয়ে গেছেন। উল্টো এক কলেজছাত্র ও এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর পর ঘটনাটি গড়ায় ব্যাপক বিতর্কে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের দাবি:
পুলিশ সূত্রমতে, গত ২৬ জুলাই উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ বড়ুয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের ১১৪ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, ২৫ জুলাই পালংখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কিছু লোক জমায়েত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া এবং আবু নাসের মোহাম্মদ ইমরান নামের দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় উপস্থিত অন্য আসামিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরীক্ষার দিনে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ:
গ্রেপ্তার হওয়া ইমরান কক্সবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক (বিবিএস) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সহপাঠী ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন (২৫ জুলাই) তিনি কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্কও নেই। সামাজিক আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা জানিয়ে স্বজনরা একে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরানের পক্ষে সরব হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, অত্যন্ত মেধাবী ও মার্জিত স্বভাবের একজন শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক নাশকতার মামলায় জড়ানোয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘুমন্ত অবস্থায় আটক, ভৌগোলিক অমিল’:
অন্যদিকে মামলার এক নম্বর আসামি ব্যবসায়ী মিলন বড়ুয়ার পরিবারও পুলিশের দাবির কঠোর বিরোধিতা করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, নলবুনিয়ায় তথাকথিত সমাবেশের অভিযোগ করা হলেও মিলন বড়ুয়ার বাড়ি হলদিয়া ইউনিয়নে। কোটবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাতে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ সেখান থেকেই ভোরে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পালংখালীর ঘটনার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়।
স্বজনদের আরও দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিলন বড়ুয়া কোনো রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে ভিন্ন মতাদর্শের পক্ষে কাজ করায় তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলিকাঁঠাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:
উখিয়া থানার এই অভিযান ও মামলা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে জোর সমালোচনা। পালংখালীর ঘটনায় হলদিয়ার অধিবাসীকে প্রধান আসামি করা এবং মূল আসামিরা অধরা থেকে যাওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত উখিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার, সহপাঠী এবং স্থানীয়দের একটাই দাবি— নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মূল সত্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং নির্দোষদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক।