১০ জানুয়ারি ২০২৬ — আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৫ তম দিবস। ১৯৭২ সালে এই দিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি রক্তাক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। কিন্তু এবারের দিবসটি অন্যরকম — জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দিন এসেছে এক ভিন্ন আবেগ ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সীমিত কিন্তু গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে দিবসটি। ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে সকাল থেকেই জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ — ছাত্র, তরুণ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সাধারণ নাগরিক। অনেকের হাতে বঙ্গবন্ধুর ছবি, অনেকের গলায় লাল-সবুজ ফিতা। কিন্তু এবার কোনো বড় রাজনৈতিক দলের মিছিল বা পুরোদস্তুর সমাবেশ নেই। পরিবর্তে, নীরবতা আর চিন্তার ছোঁয়া।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা এখন অনেকের কাছে শুধু ইতিহাস নয়, একটা জ্বলন্ত প্রশ্নও বটে। জুলাই চার্টার (July Charter)-এর আলোয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, আসন্ন ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন ও গণভোট — সবকিছুতেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নতুন করে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
একজন তরুণ আন্দোলনকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি। কিন্তু আমরা চাই না তাঁর নামে কেউ আবার একনায়কতন্ত্র ফিরিয়ে আনুক। আজকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় — স্বাধীনতা শুধু একবার পাওয়া নয়, প্রতিদিন রক্ষা করতে হয়।”
রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট ছোট আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে — পুরনো আওয়ামী লীগের পতাকার পরিবর্তে লাল-সবুজের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী গ্রাফিতি ও ‘জাতীয় বীর’ শহীদদের ছবি।
একটি নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে আজ বঙ্গবন্ধুর সেই বিখ্যাত উক্তি ভেসে আসছে:
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
আর সেই সংগ্রামের নতুন অধ্যায় চলছে — এবার আর শুধু দেশের জন্য নয়, সেই দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য।
আজকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস — একই সঙ্গে স্মৃতি, শোক, আশা আর দায়বদ্ধতার দিন।এই যেন নিরবতার প্রত্যাবর্তন দিবস।