টেকনাফ প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর দফায় দফায় চালানো ভয়াবহ বিমান হামলায় ওপারে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আর এর বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পনে এপারে বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ সদর, লেদা ও হ্নীলাসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন নির্ঘুম ও আতঙ্কময় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাখাইনের বুথিডং ও মংডু টাউনশিপের বিভিন্ন এলাকায় জান্তা বাহিনী একাধিক জেট ফাইটার এবং Y-12 বিমান থেকে অন্তত ৪০টিরও বেশি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। বুথিডংয়ের কিয়াকমাউং তাউং গ্রামে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে সোয়ে দুল আমিন (১২) ও মামাত আরোস (১২) নামের দুই মুসলিম শিশু এবং উ আমিন হুসেইন (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে গত ২৪ জুন মংডুতে ৫০০ পাউন্ডের বোমা হামলায় দুই স্কুলছাত্রীও গুরুতর আহত হয়। ওপারে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং দিন-রাত যুদ্ধবিমানের বিকট গর্জন এপারে টেকনাফের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
শাহপরীর দ্বীপের একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান:
”ওপারের বোমাবর্ষণের তীব্রতায় আমাদের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে রাতের বেলা বিকট শব্দে শিশুরা ভয়ে কেঁদে ওঠে। সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সবসময় একটা অজানা আতঙ্ক কাজ করছে।”
সীমান্তের ওপারে সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টেকনাফের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো সময় সীমান্ত পেরিয়ে অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
তবে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের ওপারে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ চললেও বাংলাদেশের সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
ওপারের পরিস্থিতির ওপর আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে। আমাদের দেশ এবং দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিজিবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
রাখাইনে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যকার এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় টেকনাফ সীমান্তের ভূ-রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত জটিল হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি’র টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।