বিশেষ প্রতিনিধি:
সাংবাদিকতাকে বলা হয় সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একসময় যা ছিল সততা, নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার প্রতীক, তা আজ একশ্রেণীর সুবিধাভোগীর কারণে ব্যবসায়িক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যম পাড়ায় একটি বিষয় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে—একই ব্যক্তির একাধিক গণমাধ্যমের আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) ব্যবহার। কোনো কোনো ব্যক্তির পকেটে ঝুলছে তিন থেকে চারটি ভিন্ন সংবাদপত্রের কার্ড। এই বাস্তবতা এখন মূলধারার সাংবাদিকতা ও এর পেশাদারিত্বকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে আইন ও নীতিমালা নিয়ে:
একজন সংবাদকর্মী কি একই সাথে ৩/৪টি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন? পেশাগত নীতি ও শ্রম আইন অনুযায়ী—না, তা সম্ভব নয়।
স্বার্থের দ্বন্দ্ব (Conflict of Interest): একজন ফুলটাইম সাংবাদিক একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। একই সাথে অন্য সংবাদ প্রতিষ্ঠানে কাজ করা পেশাগত নীতিবিরুদ্ধ।
তথ্য চুরি ও গোপনীয়তা ভঙ্গ: একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে সংবাদের এক্সক্লুসিভিটি বা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সুরক্ষা নষ্ট হয়।
অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজি: অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই একাধিক কার্ডধারীদের একটি বড় অংশ পেশাদার সাংবাদিক নন। মূলত বিভিন্ন সুবিধা আদায়, প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি কিংবা অপপ্রচারের ঢাল হিসেবে তারা একাধিক কার্ড পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ান।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও ভুঁইফোড় টিভি চ্যানেল টাকার বিনিময়ে বা কোনো বেতন ছাড়া কার্ড বিক্রি করে থাকে। আবার একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী লোক সামান্য সুবিধার আশায় একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করে। সঠিক মনিটরিং ও জবাবদিহিতা না থাকায় এই অপসংস্কৃতি দিন দিন ডালপালা মেলছে।
পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এই প্রবণতা বন্ধ না হলে প্রকৃত সাংবাদিকরা তাদের সম্মান হারাবেন। প্রেস কাউন্সিল ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা, যাতে কোনো ব্যক্তি একই সাথে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে না পারেন। একই সাথে ভুঁইফোড় গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্ড বিতরণে সঠিক যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।