৯ মার্চ ২০২৬: বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠছে ২০২৬ সালের এই মার্চ মাস। ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ত্রিমুখী সশস্ত্র সংঘাত আজ অষ্টম দিনে পা দিয়েছে। যুদ্ধের আগুন এখন আর শুধু তেহরান বা তেল আবিবে সীমাবদ্ধ নয়—এটি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে জ্বালানি সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোতে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কুয়েতে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। হামলার পর কুয়েত কর্তৃপক্ষ তেল উত্তোলনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে ১১৫ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে চালানো প্রতিশোধমূলক হামলা এখন সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। কুয়েতে হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণের খবরও পাওয়া গেছে, যাতে একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল। প্রথম দিনেই তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ শীর্ষস্থানীয় অনেক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা এখন আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।