কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) গিয়াস উদ্দিনসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জমিতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিল সাজ্জাদ চৌধুরী (৪০) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লারপাড়া এলাকায় বাদীর ভগ্নিপতি হেনাউল ইসলাম বাবুলের মালিকানাধীন জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। ১ নম্বর আসামি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে জমি দখলে বাধা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকিও দেওয়া হতো।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কক্সবাজার সদর এসি ল্যান্ডের নির্দেশনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সার্ভেয়ার জমিটি পরিমাপ করে সীমানা চিহ্নিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা পুনরায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে তা প্রত্যাখ্যান করায় ঘরবাড়ি ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বাদীকে দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয় এবং ১ নম্বর আসামি গিয়াস উদ্দিন লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা চালান। হাত দিয়ে তা প্রতিহত করতে গেলে বাদীর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করে। জখমপ্রাপ্ত বাদী পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৫, ৩০৭, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনধিকার প্রবেশ, চাঁদা দাবি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।