আলা উদিদন, ঈদগাঁও।
উৎপাদনের তারিখের আগেই বাজারে ‘দি বেকার্স’-এর পণ্য পাওয়া যাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরপর দুই দিনে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
গত ১৫ আগস্ট বাজারে ‘দি বেকার্স’-এর একটি পাউরুটি পাওয়া যায়, যার প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ ছিল ১৬ আগস্ট ২০২৬। অর্থাৎ প্যাকেটের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনের এক দিন আগেই পণ্যটি বাজারে পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ সময় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাজারজাতের সুবিধার্থে বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদনের পরদিন থেকে তারিখ ব্যবহার করে থাকে।
তবে এ বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যদি উৎপাদনের পরদিনের তারিখ ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও বাজারজাতের তারিখ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না কেন? জবাবে জানানো হয়, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এমনটি হলেও পাউরুটির ক্ষেত্রে এ ধরনের তারিখ দেওয়ার নীতি নেই। বিষয়টি নিয়ে ডিলার ওমর ফারুকও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিএসটিআইয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যেদিন পণ্য উৎপাদন করা হবে, সেদিনের তারিখই পণ্যের গায়ে উৎপাদনের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করার কথা। একদিন পরের তারিখ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
কিন্তু এর এক দিন পর, ১৬ আগস্ট, বাজার তদারকির সময় সামনে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য। ‘দি বেকার্স’-এর প্লেইন কেকের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৮ আগস্ট ২০২৬। অর্থাৎ প্যাকেটের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনের দুই দিন আগেই পণ্যটি বাজারে পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে আবারও কথা বলা হলে তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না বলেও আশ্বস্ত করে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একই প্রতিষ্ঠানের পণ্যে পরপর দুই দিনে উৎপাদনের তারিখ নিয়ে এমন অসঙ্গতি কীভাবে ঘটল? এটি কি নিছক মুদ্রণজনিত ভুল, নাকি পণ্য উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত প্রক্রিয়ায় কোনো তদারকির ঘাটতি রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোক্তাদের কাছে কোনো পণ্যের মান ও নিরাপত্তার পাশাপাশি প্যাকেটে সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনের তারিখের মতো মৌলিক তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকের আস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তাই শুধু সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা নয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন বেকারিতে বাজারজাত করা পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের মান, প্যাকেটজাতকরণ এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভোক্তারা।
গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু সামান্য অসঙ্গতিতেই সেই আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ভোক্তাদের প্রত্যাশা—ব্যাখ্যার পাশাপাশি এবার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হোক, গ্রাহকের বিশ্বাসই সবার আগে।