কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা।
তবে এ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চলছে ও উভয় পক্ষই নিজেদের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রত্যর্পণের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভারতীয় আইনেও সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না। কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দিল্লি ও ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক আলোচনার বাইরে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি নির্ধারিত আইনি ও কূটনৈতিক বিধিবিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ভারতের এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজয়ের মাস হিসেবে ডিসেম্বরকেই তিনি দেশে ফেরার উপযুক্ত সময় মনে করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এই রায়ের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে।