নিজস্ব প্রতিবেদক ঈদগাঁও
কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় বসতঘরে ডাকাতির সময় এক ডাকাতকে আঁকড়ে ধরে আটক করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শাহাদাত আনোয়ার শিবলী প্রকাশ বাবু (২৬) নামে এক যুবক। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক ডাকাতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোদাইবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত বাবু ওই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে বসতঘরের দ্বিতীয় তলার দরজার তালা ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাবুর। ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেছে বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার করে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেন। পরে ডাকাতদের প্রতিরোধে এগিয়ে যান তিনি।
এ সময় এক ডাকাত বাবুর বুক লক্ষ্য করে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ওই ডাকাতকে আঁকড়ে ধরে ফেলেন বাবু। এতে তার ডান হাত গুরুতরভাবে আহত হয়। এ সুযোগে অন্য ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত বাবুর চাচা সরওয়ার জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা বাবুর মোবাইল ফোন, হাতের আংটি ও আরও কিছু মালামাল নিয়ে যায়।
প্রতিবেশী ও সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক জানান, সরওয়ারের মাধ্যমে ডাকাতির খবর পেয়ে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিজের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার এক ডাকাত আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ডাকাত আটকের পর ঘটনাস্থলে পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আটক ডাকাতকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় নেয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, পরিবারের এক যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাতকে আটক না করলে ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের কাউকে আটক করা সম্ভব হতো কি না।
তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণ কিংবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।