দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
টেকনাফে মহিষ আনতে গিয়ে কিশোর অপহরণ, সংবাদ প্রকাশের পর হত্যার হুমকির অভিযোগ
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে মহিষ আনতে গিয়ে মো. আরফাত (কিশোর) নামে এক ব্যক্তি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রথমে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে গালাগালি ও আরফাতকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় পাহাড়ে মহিষ আনতে গেলে আরফাত নিখোঁজ হন। তিনি শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার আব্দুল মাবুদের ছেলে।
অপহৃতের বাবা আব্দুল মাবুদ জানান, শুক্রবার পাহাড়ের পাদদেশে মহিষ আনতে যাওয়ার পর থেকে আরফাতের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে আরফাতের মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অপহরণকারীরা তাদের গালাগালি করে এবং আরফাতকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর থেকে তারা আর কোনো যোগাযোগ করেনি।
তিনি আরও বলেন, “ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা এখন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি। আমাদের একমাত্র চাওয়া, প্রশাসন দ্রুত তাকে জীবিত উদ্ধার করুক।”
এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের বিষয়টি সত্য। তবে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাদের জানা নেই। তিনি বলেন, “অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেলেও, কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং কিছু ভুক্তভোগী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং অপহরণকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।