টেকনাফ প্রতিনিধি, মিসবাহ উল্লাহ
০৫ জুন, ২০২৬
কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৭০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষক ও সুপরিচিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (কামাল মাস্টার)। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উদ্ধার অভিযানে নয়, বরং অপহরণকারীদের চড়া দাবি মেনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীর জুমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকেই কামাল উদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয়। ৬ জনের একটি সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী দল অতর্কিতে হানা দিয়ে তাকে জোরপূর্বক পাহাড়ের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। এর পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বসে।
এরপর সাত দিন ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও দেনদরবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে অক্ষত ফিরে পেতে অপহরণকারীদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয় পরিবারটি। মুক্তিপণ পাওয়ার পরই কেবল কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।
অপহৃত কামাল উদ্দিন এলাকায় একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন বিএ পাস শিক্ষিত মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। সৎ, ভদ্র ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ মানুষের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। এমন একজন গুণী ও বয়োবৃদ্ধ মানুষকে অপহরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে পুরো এলাকায়।
অপহরণের খবর পেয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও পুলিশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা এবং একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসেছে।
বর্তমানে পুরো বাহারছড়া এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি—অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী সেনা বা পুলিশি ক্যাম্প স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ি অপরাধ চক্রকে দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।