• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
কক্সবাজারে পেটের ভেতরে লুকানো ১,৫৮০ পিস ইয়াবাসহ রাজবাড়ীর যুবক আটক আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ প্রথম আলোর ফেসবুক পেজের সেই ‘স্যরি’ পোস্টের পেছনের গল্প ভ্যানচালক স্বামীর সংসারে লড়াই থেকে আজ সফল উদ্যোক্তা: বদলে যাওয়া মরিয়মের গল্প অন্যকে মা-বাবা সাজিয়ে এনআইডি-পাসপোর্ট তৈরি, রাঙ্গুনিয়ায় ফয়সাল আটক নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪০ হাজার বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করল ৩৪ বিজিবি আজ ৩ নভেম্বর ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস: কারাগারের ঘেরাটোপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল জাতীয় চার নেতার জীবন কক্সবাজারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন ব্যবসায়ী আলী আহমদ কোম্পানি টেকনাফের বড়ইতলীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা ও সিএনজি জব্দ ঈদগাঁওতে ড্রেজারে অবৈধ বালি উত্তোলন: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মেশিন জব্দ

টেকনাফে দিনে-দুপুরে অপহরণ: সপ্তাহ শেষে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে মিলল মুক্তি

মিসবাহ উল্লাহ / ২২৩ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

টেকনাফ প্রতিনিধি, মিসবাহ উল্লাহ
০৫ জুন, ২০২৬
​কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণের দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছেন ৭০ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষক ও সুপরিচিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কামাল উদ্দিন (কামাল মাস্টার)। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো উদ্ধার অভিযানে নয়, বরং অপহরণকারীদের চড়া দাবি মেনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
​
​পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীর জুমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকেই কামাল উদ্দিনকে তুলে নেওয়া হয়। ৬ জনের একটি সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী দল অতর্কিতে হানা দিয়ে তাকে জোরপূর্বক পাহাড়ের গহীন অরণ্যে নিয়ে যায়। এর পরপরই অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বসে।
​এরপর সাত দিন ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ও দেনদরবার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রিয়জনকে অক্ষত ফিরে পেতে অপহরণকারীদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয় পরিবারটি। মুক্তিপণ পাওয়ার পরই কেবল কামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

​অপহৃত কামাল উদ্দিন এলাকায় একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি একজন বিএ পাস শিক্ষিত মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। সৎ, ভদ্র ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ মানুষের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। এমন একজন গুণী ও বয়োবৃদ্ধ মানুষকে অপহরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে পুরো এলাকায়।
​
​অপহরণের খবর পেয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও পুলিশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা এবং একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতা জেঁকে বসেছে।
​
​বর্তমানে পুরো বাহারছড়া এলাকায় এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি—অনতিবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী সেনা বা পুলিশি ক্যাম্প স্থাপন করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
​এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ি অপরাধ চক্রকে দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd