ঈদগাঁও প্রতিনিধি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত, হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোমাতলী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে পালাকাটা জালালাবাদের শুক্কুরের দোকানের পশ্চিম পাশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, জালালাবাদের লরাবাগ এলাকায় মাত্র এক হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ রক্তক্ষয়ী ঘটনায় রূপ নেয়। ছুরিকাঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। এদিকে ঈদগাঁও বাস স্টেশন এলাকায় একটি কম্পিউটার দোকানে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের শিকার হন এক ব্যক্তি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও উত্তর বাঁশঘাটা ও দক্ষিণ বাঁশঘাটা এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে পশ্চিম ভরমিয়া ঘোণা এলাকায় ঈদগাঁও নদীতে পড়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা ঈদগাঁও উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা মনে করছেন, সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
জনসাধারণের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং অপরাধ প্রবণতা রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করবে।