মিসবাহ উল্লাহ, টেকনাফ :
টেকনাফ, ৪ জুন: সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য যেন থামছেই না। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। গত পরশু কচ্ছপিয়া ও পুরান পাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকা থেকে তিন শিশু অপহরণের শিকার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শামলাপুরের একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী খেলাধুলা করার সময় অপহৃত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র ওত পেতে শিশুদের তুলে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, শিশু তিনজনকে কচ্ছপিয়া এলাকার একটি চিহ্নিত ও প্রভাবশালী মানবপাচার চক্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, শিশুদের সমুদ্রপথে বা অন্য কোনো রুটে পাচার করার উদ্দেশ্যে এই অপহরণ ঘটানো হয়েছে।
এক শিশুর অভিভাবক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“দিনের আলোয় আমাদের সন্তানদের তুলে নিয়ে গেছে। আমরা জানতে পেরেছি কচ্ছপিয়ার মানবপাচার চক্র এর সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছি না। আমরা শুধু আমাদের সন্তানদের অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই।”
গুলির ঘটনায় এখনো কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় মানবপাচার ও সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয়। কচ্ছপিয়ার মতো সংবেদনশীল এলাকায় অপরাধীদের অবাধ বিচরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অবিলম্বে কচ্ছপিয়ার মানবপাচার চক্র এবং পুরান পাড়ার অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালানো না হলে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপহৃত তিন শিশুর কোনো সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে শিশুরা নিরাপদে ফিরে আসে এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়।