দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার সিমান্ত জনপদ টেকনাফে মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই জন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। গত মধ্যরাতে ও আজ শুক্রবার সকালে পৃথক অভিযানে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে এবং সর্বমোট ৮৯,৮০০ (ঊননব্বই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি হোসন আহামদ (৩৮), পিতা-আব্দুর রশিদ এবং মোঃ শামসুল আলম (৪৫), পিতা-মৃত মোজাহের মিয়া উভয়েই ক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন সদর ইউনিয়ন (ইউপি)-এর ০৫ নং ওয়ার্ডের মহেশখালীয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের স্থায়ী বাসিন্দা।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ০৪ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-১, র্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য বিক্রয় বা অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফ সদর ইউপির ০৫ নং ওয়ার্ডের মহেশখালীয়া পাড়া নৌকা ঘাটে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি ০৫ জুন ভোর রাত আনুমানিক ০৫ টার দিকে উক্ত স্থানে পৌঁছালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামি হোসন আহামদ (৩৮)’কে আটক করতে সম্ভব হলেও অপর আসামি মোঃ শামসুল আলম (৪৫) কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উপস্থিত এলাকার লোকজনের সম্মুখে ধৃত আসামি হোসন আহামদের হেফাজতে থাকা একটি পুরনো প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশী করে ৯টি প্যাকেটে মোড়ানো জিপারযুক্ত পলি ব্যাগ থেকে সর্বমোট ৮৯,৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি স্বীকার করে যে, সে এবং পলাতক আসামি মোঃ শামসুল আলম দীর্ঘদিন যাবৎ পরস্পর যোগসাজশে মায়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রয় করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে র্যাবের আভিযানিক দল পলায়নকৃত আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আজ ০৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় মহেশখালীয়া পাড়া এলাকা থেকে পলাতক আসামি মোঃ শামসুল আলম (৪৫)’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে উদ্ধারকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।