নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা এখন মিয়ানমার থেকে আনা চোরাই গরুর অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে আসা এসব বার্মিজ গরু প্রথমে ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় ও আড়তে মজুত করা হচ্ছে। এরপর রাতের আঁধার নামলেই ট্রাকভর্তি করে সেগুলো পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কারবার। পাচারকারীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে একধরনের টোকেন ব্যবহার করে চোরাই গরুর চালানকে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
এই অবাধ চোরাচালানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করেই সিন্ডিকেটটি তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এরই মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছে যে, ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী এই চোরাচালানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা এই চোরাকারবারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও সিন্ডিকেটের হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার না চালানোর জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান তারা।