• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিক সমাজের তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে মুক্তি পেলেন হাফিজুর রহমান শফিক রামুতে ছাত্রলীগের শোডাউন: সাদ্দাম-মিশুকসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা টেকনাফে ৩০ লিটার মদ ও ইজিবাইক টমটমসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার পেকুয়া-চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন ২ হাজার মানুষ সংরক্ষিত বন রক্ষায় গিয়ে বারবার হামলার শিকার বনকর্মীরা: রামুতে আহত রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ কক্সবাজারে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করল সদর থানা পুলিশ, গ্রেপ্তার ১ ঈদগাঁও ও মহেশখালীর মাতাবাড়ীতে অবশেষে অনুমোদিত হলো ২ নতুন ফায়ার স্টেশন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল কক্সবাজার রামুর খুনিয়াপালংয়ে ওষুধবাহী গাড়ি ও সিএনজি সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৪ উখিয়ায় নাশকতার মামলায় জুলাই আন্দোলনকারী ছাত্র ও ব্যবসায়ী কারাগারে: মূল আয়োজকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ছে,কক্সবাজার হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড়

নিউজ ডেস্ক। / ২২৬ Time View
Update : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

ঢাকা,কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের মধ্যে হাম (Measles) রোগের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, ভ্যাকসিনের স্বল্পতা এবং মাঠপর্যায়ের সমস্যার কারণে অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি। ফলে এখন হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের ভিড় উপচে পড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতাল (আইডিএইচ) সহ অন্যান্য হাসপাতালে চলতি বছর হামের রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক শিশু (বিশেষ করে এক বছরের নিচে) মেঝেতে অস্থায়ী বিছানায় চিকিৎসা নিচ্ছে। কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির ফোঁটার মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়।
হামের লক্ষণসমূহ
উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, লাল চোখ।
মুখের ভিতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পট)।
শরীরে লালচে দানা (র‍্যাশ), যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়ায়।
দানা ওঠার ৩-৪ দিন পর খুসকির মতো ঝরে যায়।
ঝুঁকি কাদের বেশি?
টিকা না নেওয়া শিশু (বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী)।
অপুষ্টিতে ভোগা শিশু।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু।
ভিড়াক্রান্ত এলাকা, শরণার্থী ক্যাম্প বা গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী শিশু।
জটিলতা: নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের ইনফেকশন, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
সুরক্ষার উপায় কী?
হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। সরকারি এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়:
প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে।
দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে।
দুটি ডোজ নিলে প্রায় ৯৭% সুরক্ষা পাওয়া যায়।
অন্যান্য সতর্কতা:
শিশুকে সময়মতো সব টিকা দিন। মিসড ডোজ থাকলে দ্রুত পূরণ করুন।
হামের রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ সিরাপ খাওয়ান (পরপর দুই দিন) — এটি জটিলতা কমায়।
প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিন, জ্বর নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে)।
হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের মতে, ৯৫% টিকাদান কভারেজ না হলে প্রাদুর্ভাব রোধ করা কঠিন। বর্তমানে টিকার সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান: আপনার শিশুর টিকার কার্ড চেক করুন। কোনো ডোজ বাকি থাকলে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে যান। হামের লক্ষণ দেখলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
হাম প্রতিরোধে সচেতনতা ও টিকাদানই একমাত্র সমাধান। শিশুদের সুরক্ষায় সবাই মিলে সতর্ক থাকুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd