
ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ — বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহসিন রশীদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহের (ট্রেজন) পর্যায়ে পড়ে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ এক সাক্ষাৎকারে মোহসিন রশীদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য থাকার সময় রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ রাখা হয়নি, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত করা হয়নি এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা হয়েছে। এগুলোকে তিনি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ইটস ট্রিজন” (এটি রাষ্ট্রদ্রোহ)।
মোহসিন রশীদ আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে যথাযথ সম্মান না পাওয়া রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল।
তিনি উল্লেখ করেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন—যার হাতে শপথ নিয়েছেন তাকেই এভাবে অপমান করা হয়েছে। এছাড়া প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টাসহ এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী। ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।
ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি করেন মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা দরকার।”
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জের বিষয়ে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে রিভিউ করবেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার যদি কোনো ইনকোয়ারি কমিটি গঠন না করে, তাহলে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেবেন এবং ড. ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন। তিনি বলেন, “আগেও করেছি, আবারও করব।”
এ ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।