বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন মূলত দুটি বড় জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট (যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি অন্তর্ভুক্ত)। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, ফলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট: ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি এখন নির্বাচনের ফ্রন্টরানার। তারিক রহমানের নেতৃত্বে দলটি দীর্ঘদিনের বিরোধী অবস্থান থেকে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছে। জোটের অন্যান্য দলগুলো সহায়ক ভূমিকায় রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট: দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বে এই জোটে এনসিপি (পানির লিলি কলির প্রতীক), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সহ অন্যান্য দল রয়েছে। জামায়াত ১৭৯টি আসনে, এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই জোট যুবক ও নতুন ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ (যেমন—Communication and Research Foundation ও Bangladesh Election and Public Opinion Studies-এর যৌথ জরিপ, IRI, NarratiV, Projection BD ইত্যাদি) থেকে দেখা যাচ্ছে:
বিএনপির সমর্থন ৩৩-৩৫% (কিছু জরিপে ৩৪.৭%)।
জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থন ২৯-৩৪% (কিছু জরিপে ৩৩.৬%)।
আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী সমর্থকদের মধ্যে ৪৮.২% বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, ২৯.৯% জামায়াত-সমর্থিত জোটের দিকে, ৬.৫% এনসিপির দিকে এবং বাকিরা অন্যান্য বা অনির্ধারিত।
নতুন ভোটার (২০০৮-এর পর প্রথমবার ভোট দেওয়া)দের মধ্যে জামায়াত ৩৭.৪% সমর্থন পাচ্ছে, বিএনপি ২৭% এবং এনসিপি ১৭%।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তার সমর্থকদের একাংশ ভোট বয়কটের কথা বললেও জরিপগুলো দেখাচ্ছে—বড় অংশ (প্রায় অর্ধেক) বিএনপির দিকে যাচ্ছে। এটি বিএনপির জয়ের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপি জোট যুবকদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলছে, যা লড়াইকে কাছাকাছি করে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে—মোট ২,০৩৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২.৭৭ কোটি। ভোটের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়—তা-ই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন, তবে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের উত্থানও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।