নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিদেশ যাত্রায় কড়াকড়ি আরোপ করে প্রজ্ঞাপনও প্রকাশ করে। কিন্তু এসব নির্দেশনা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। নিয়মের তোয়াক্কা না করে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচি ও লাহোর শহর ঘুরে এসেছেন—সবই সরকারি অর্থায়নে।
সূত্রমতে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং কর-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়। কিন্তু নির্বাচনী সময়ে এমন ভ্রমণ কেন অনুমোদিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা ছিল স্পষ্ট: অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশ যেতে পারবেন না। এনবিআরের প্রজ্ঞাপনও বলছিল, ভ্রমণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হবে। তবু এই সাত কর্মকর্তার দল নির্বিঘ্নে পাকিস্তান যান এবং ফিরেও আসেন।
এই ঘটনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনার প্রতি এমন উদাসীনতা শুধু নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, জনগণের টাকার অপচয়ও। একজন সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “নির্বাচনের মুখে এসব নিষেধাজ্ঞা জারি হয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। কিন্তু যদি উচ্চপর্যায়ের লোকেরা নিজেরাই না মানেন, তাহলে অন্যদের কী বলবেন?”
এনবিআরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। তবে সূত্র জানায়, সফরটি ‘আয়কর সংক্রান্ত সহযোগিতা’র নামে অনুমোদিত হয়েছে। করাচি ও লাহোরে কর্মকর্তারা স্থানীয় কর প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এমন সফর কি সত্যিই জরুরি ছিল, নাকি নিষেধাজ্ঞার ফাঁক গলে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া হয়েছে?
এই ঘটনা সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেও তুলে ধরেছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে এক, এনবিআর করে অন্য। ফলে ‘কে মানে কার কথা’—এই প্রশ্নটি এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এমন ঘটনা সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে।