• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
রামু খুনিয়াপালং ট্রাক-বাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ যুবক নিহত কক্সবাজার, রামু, ঈদগাঁওয়ে সবুজ সবজির দামে আগুন, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার র‌্যাব- ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উখিয়ায় অস্ত্র-গুলিসহ রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার কক্সবাজার সীমান্তে ৬০০ অসহায় মানুষের মাঝে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নগদ অর্থ সহায়তা পেলেন আশা ঈদগাঁও শাখার সদস্যরা টেকনাফের দমদমিয়ায় দিনদুপুরে বাসে হানা দিল ডাকাত দল, যাত্রীদের মালামাল লুট উখিয়ার তুতুরারবিলের সিএনজি চালক হামিদুল রেজুখাল চেকপোস্টে ৪,৫০০ ইয়াবাসহ আটক টেকনাফের দমদমিয়া চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে দেশীয় চোলাই মদ ও বাসসহ দুই অভিযুক্ত আটক টেকনাফে অপরাধমুক্ত গড়ার প্রত্যয়: পুলিশ ও জনতার যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ইসলামাবাদ রেলস্টেশন পরিদর্শনে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী, দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতির আশ্বাস

উখিয়ায় ‘মব জাস্টিস’: ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের নির্মম মৃত্যু

মিসবাহ উল্লাহ,টেকনাফ উপজেলা। / ৮৫ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া (কক্সবাজার): মিসবাহ উল্লাহ টেকনাফ।

প্রতিহিংসার রাজনীতির এক চরম নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে। আটক হওয়া সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একই সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল একে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির নামে চরম আইন অমান্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
​ঘটনার বিবরণ:
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়ায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের খবর পেয়ে আর কোনো কিছু না ভেবেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার মা। সন্তানের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, মায়ের কাছে সন্তানের জীবনের নিরাপত্তাই ছিল মুখ্য। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই চরম নৃশংসতার শিকার হন। মারধরের একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
​মায়ের স্বার্থহীন ভালোবাসা ও আইনি প্রশ্ন:
​সমাজবিজ্ঞান ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একজন মায়ের কাছে সন্তানের রাজনৈতিক আদর্শ বা অপরাধ মুখ্য বিষয় নয়। সন্তানকে যেকোনো পরিস্থিতিতে রক্ষা করা মায়ের চিরন্তন প্রবৃত্তি। কিন্তু অপরাধের বিচার যেখানে প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে হওয়ার কথা, সেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক মব বা গণউত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।
​সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া ও বিচারের দাবি:
​এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হচ্ছে:
​অবিলম্বে গ্রেপ্তার: এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।
​দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
​আইনশৃঙ্খলা জোরদার: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা যেকোনো অযুহাতে মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
​জনসাধারণের স্পষ্ট বার্তা, “বিচার কার কাছে চাইবো জানি না”—এমন শঙ্কা যেন সমাজকে গ্রাস না করে। প্রশাসন ও সরকারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং দেশবাসীর একটাই জোর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সময়ের ব্যবধানে যেন এই রক্তক্ষয়ী প্রতিহিংসার রাজনীতি এ দেশ থেকে চিরতরে মুছে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd