• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
কক্সবাজারে পেটের ভেতরে লুকানো ১,৫৮০ পিস ইয়াবাসহ রাজবাড়ীর যুবক আটক আপা আসবে তাই চলে যাচ্ছি, বিদায় বাংলাদেশ: আসিফ মাহমুদ প্রথম আলোর ফেসবুক পেজের সেই ‘স্যরি’ পোস্টের পেছনের গল্প ভ্যানচালক স্বামীর সংসারে লড়াই থেকে আজ সফল উদ্যোক্তা: বদলে যাওয়া মরিয়মের গল্প অন্যকে মা-বাবা সাজিয়ে এনআইডি-পাসপোর্ট তৈরি, রাঙ্গুনিয়ায় ফয়সাল আটক নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪০ হাজার বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করল ৩৪ বিজিবি আজ ৩ নভেম্বর ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস: কারাগারের ঘেরাটোপে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল জাতীয় চার নেতার জীবন কক্সবাজারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন ব্যবসায়ী আলী আহমদ কোম্পানি টেকনাফের বড়ইতলীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা ও সিএনজি জব্দ ঈদগাঁওতে ড্রেজারে অবৈধ বালি উত্তোলন: ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মেশিন জব্দ

উখিয়ায় ‘মব জাস্টিস’: ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের নির্মম মৃত্যু

মিসবাহ উল্লাহ,টেকনাফ উপজেলা। / ১২৯ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া (কক্সবাজার): মিসবাহ উল্লাহ টেকনাফ।

প্রতিহিংসার রাজনীতির এক চরম নির্মমতার চিত্র ফুটে উঠেছে। আটক হওয়া সন্তানকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, একই সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল একে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির নামে চরম আইন অমান্যের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
​ঘটনার বিবরণ:
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়ায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের খবর পেয়ে আর কোনো কিছু না ভেবেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার মা। সন্তানের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, মায়ের কাছে সন্তানের জীবনের নিরাপত্তাই ছিল মুখ্য। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি নিজেই চরম নৃশংসতার শিকার হন। মারধরের একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
​মায়ের স্বার্থহীন ভালোবাসা ও আইনি প্রশ্ন:
​সমাজবিজ্ঞান ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একজন মায়ের কাছে সন্তানের রাজনৈতিক আদর্শ বা অপরাধ মুখ্য বিষয় নয়। সন্তানকে যেকোনো পরিস্থিতিতে রক্ষা করা মায়ের চিরন্তন প্রবৃত্তি। কিন্তু অপরাধের বিচার যেখানে প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে হওয়ার কথা, সেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক মব বা গণউত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।
​সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া ও বিচারের দাবি:
​এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হচ্ছে:
​অবিলম্বে গ্রেপ্তার: এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।
​দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
​আইনশৃঙ্খলা জোরদার: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা যেকোনো অযুহাতে মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
​জনসাধারণের স্পষ্ট বার্তা, “বিচার কার কাছে চাইবো জানি না”—এমন শঙ্কা যেন সমাজকে গ্রাস না করে। প্রশাসন ও সরকারের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং দেশবাসীর একটাই জোর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সময়ের ব্যবধানে যেন এই রক্তক্ষয়ী প্রতিহিংসার রাজনীতি এ দেশ থেকে চিরতরে মুছে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd