কক্সবাজার:
ভাবগম্ভীর পরিবেশ, ঢাক-ঢোল, কাঁসরের বাদ্য আর প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে সম্পন্ন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সমুদ্রের বিশালতায় দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে লাবণী পয়েন্টে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। এটি প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন উৎসবে পরিণত হয়।
বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত মূল বিসর্জন মঞ্চে একে একে জড়ো হতে থাকে কক্সবাজার জেলা সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মণ্ডপের প্রতিমা। ধূপের ধোঁয়া, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের ‘আসছে বছর আবার হবে’ ও ‘জয় দুর্গা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সমুদ্রসৈকত। পরম ভক্তি ও অশ্রুসিক্ত চোখে আগামী বছর দেবী দুর্গাকে আবার ফিরে পাওয়ার প্রার্থনায় বিসর্জন দেওয়া হয় বিগ্রহ।
এ বছর বিসর্জন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৈকতজুড়ে নেওয়া হয় নজিরবিহীন ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যৌথ মনিটরিংয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হয়।প্রতিমা বিসর্জন উৎসবে কেবল স্থানীয় বা সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নন, কক্সবাজারে আগত হাজার হাজার পর্যটক এবং সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে উৎসবটি রূপ নেয় এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মহাসমিলনে। বিসর্জনের পরপরই বিগ্রহ সাগরের জলে মিলিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সার্বজনীন শারদোৎসবের।