মিশরের বিদায় ও রেফারি বিতর্ক: কাঠগড়ায় ফরাসি ম্যাচ অফিশিয়াল ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে
খেলাধুলা ডেস্ক:
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রূপকথার জয়ের খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে মিশরের। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহামেদ সালাহদের দলকে। তবে লিওনেল মেসিদের এই রোমাঞ্চকর জয় ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বের মূল আলোচনায় ম্যাচ রেফারির বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে মিশরের কোচ ও ফুটবলাররা সরাসরি রেফারির দিকে আঙুল তুলেছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে বাঁশি হাতে দায়িত্বে ছিলেন উয়েফার সুপরিচিত ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ও ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করছে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এই হাইপ্রোফাইল ম্যাচের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— কে এই লেতেক্সিয়ে এবং কেমন তার অতীত ক্যারিয়ার?
লেতেক্সিয়ে’র ক্যারিয়ার প্রোফাইল:
১৯৮৯ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানিতে জন্ম নেওয়া ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে পরিচিত।
লিগ ওয়ান ও আন্তর্জাতিক অভিষেক: ২০১৬ সালে ফ্রান্সের শীর্ষ ঘরোয়া লিগ ‘লিগ ওয়ান’-এ ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে নজরে আসেন তিনি। এর ঠিক পরের বছরই, ২০১৭ সালে পান ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি।
এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্তি: দ্রুতই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ‘এলিট ক্যাটাগরি’র রেফারি প্যানেলে।
পরিচালনা করা উল্লেখযোগ্য মেগা ম্যাচ:
২০২১ ইউরোপা লিগ ফাইনাল (ভিয়ারিয়াল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
২০২৩ উয়েফা সুপার কাপ ফাইনাল (ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সেভিয়া)
ইউরো ২০২৪ ফাইনাল (স্পেন বনাম ইংল্যান্ড)
২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল (ফ্লুমিনেন্সে বনাম চেলসি)
অতীতের যত বিতর্ক ও কঠোরতা:
সাধারণত মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশ কঠোর হিসেবে পরিচিত এই ফরাসি রেফারি। ক্যারিয়ারে খুব বড় ধরনের কেলেঙ্কারিতে না জড়ালেও ২০২২ সালের একটি ম্যাচ নিয়ে তাকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
ফরাসি লিগে নিস বনাম নঁতের মধ্যকার সেই ম্যাচে ভিএআর (VAR) দেখার পরও নঁতের পক্ষে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, যা ফুটবল মহলে তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, ওই একই ম্যাচে খেলোয়াড়দের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে তিনি মোট ৭টি হলুদ কার্ড এবং ২টি লাল কার্ড দেখিয়ে নিজের কঠোর রেফারিংয়ের রূপ প্রকাশ করেছিলেন।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর সেই পুরোনো বিতর্ক আবার নতুন করে সামনে এলো, যেখানে তার কার্ডের ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।