মিসবাহ উল্লাহ, টেকনাফ :
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় দিন দিন নিরাপত্তা সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও আশপাশের এলাকাগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমান্বয়ে অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিবিরের অভ্যন্তরে ও বাইরে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রকাশ্য অপতৎপরতা, অস্ত্রবাজি, মাদক চোরাচালান এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই ঘটছে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো মারাত্মক অপরাধ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলগুলোর মধ্যে গভীর রাতে গোলাগুলির শব্দ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এতে করে শুধু ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাই নয়, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাংলাদেশিরাও।
স্থানীয়দের মনে বাড়ছে ‘দখল’ ও সার্বভৌমত্বের শঙ্কা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সুশীল সমাজের বরাতে জানা যাচ্ছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিশাল জনসংখ্যা ও তাদের একাংশের উগ্র রূপ দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এক ধরণের দীর্ঘমেয়াদী শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের অনেক বাসিন্দার মতে, এখনই যদি এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে কঠোর হস্তে দমন করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, “রোহিঙ্গাদের একাংশের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয়দের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। এদের এখনই থামানো না হলে ভবিষ্যতে আমাদের নিজের ভূমিতেই পরবাসী হতে হবে।”
প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি ও সুশীল সমাজের আহ্বান
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দেশের আপামর জনসাধারণকে এই সংকটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয়দের মূল দাবিগুলো হলো:
সন্ত্রাসী দমন অভিযান: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র, মাদক এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা।
নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার: ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেড়া ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাইরে আসা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি: রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর অর্থ ও অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া।
প্রশাসনের বক্তব্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, এপিবিএন এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধীদের দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে ক্যাম্পের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশাল জনসংখ্যার কারণে নজরদারি বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে এবং সন্ত্রাসী বাহিনীকে সম্পূর্ণ দমন করতে প্রশাসন তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্থানীয় নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।