কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানা (২০) নামে এক তরুণ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত ৮টার দিকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ফাতের ঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ইমন পলাতক থাকায় মৃত্যুর রহস্য নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পুলিশি তৎপরতা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ঘরের ভেতর ফারজানার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আর্থিক বিরোধ ও পারিবারিক কলহ
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ কোনো আত্মহত্যা নয়। ফারজানার মা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ইমনের সঙ্গে ফারজানার আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
বিবাদের সূত্রপাত: সম্প্রতি ফারজানা তার বোনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার করে স্বামী ইমনকে দেন।
উত্তেজনা: এই টাকা নিয়ে সোমবার দিনভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি হয়।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী ইমন আত্মগোপনে থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকেই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও রহস্য দানা বেঁধেছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামান্য আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গৃহবধূর মৃত্যুর এই ঘটনাটি পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান:
”আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া অভিযুক্ত স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”
বর্তমানে এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় এ নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।