
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | ১০ মে, ২০২৬:
কক্সবাজারের রামু থানাধীন জোয়ারিয়ানালা চা বাগান সংলগ্ন গহীন অরণ্যে সংঘটিত ক্লু-লেস শামসুল আলম (৫১) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ১) উখিয়ার হলুদিয়াপালং ইউনিয়নের পাগলি বিল এলাকার আব্দু শুক্কুর (৩৮), ২) রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ছাদিরকাটা এলাকার গুরা মনিয়া (২২) এবং ৩) উখিয়ার পাগলি বিল এলাকার হোছন (১৯)।
যেভাবে উদঘাটিত হলো রহস্য
গত ১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৩১/১০৯) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ শওকত জামিল কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকা সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন। গত ০৮ ও ০৯ মে উখিয়া ও রামু থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি আব্দু শুক্কুর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়:
পরিকল্পনা: আসামিরা পরিকল্পিতভাবে শামসুল আলমের অটো মিশুক গাড়িটি ছিনতাই করার ছক আঁকে।
মালামাল পরিবহনের অজুহাতে ১,২০০ টাকায় ভাড়া করে তারা ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর থেকে রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের রাবার বাগান কারখানার পেছনের নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যায়।
গহিন অরণ্যে আসামিরা গাড়ির চাবি চাইলে শামসুল আলম বাধা প্রদান করেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামিরা ভিকটিমের গামছা দিয়েই তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। চেনার উপায় না রাখতে তারা ভিকটিমের মুখে মাস্ক লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা অটোরিকশাটি নিয়ে উখিয়ার মরিচ্যা এলাকায় লুকিয়ে রাখে। পরদিন ১১ মার্চ, তারা গাড়িটি কোটবাজার এলাকায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে মাত্র ৩০,০০০ টাকায় বিক্রি করে দেয় এবং প্রত্যেকে ১০,০০০ টাকা করে ভাগ করে নেয়।
রামু থানা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এই ক্লু-লেস মামলার প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শামসুল আলমের ছিনতাই হওয়া অটো মিশুক গাড়িটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।