দিদারুল আলম জিসান: কক্সবাজার
কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ হাজার ৬৭৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং ৩ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর রেজুখাল চেকপোস্ট ও বাইশফাঁড়ি বিওপি এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাইশফাঁড়ি বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস এর ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৮ হাজার ৭৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশি অভিযানে বিজিডি-১০৮৫ ডগ “জর্জ” এর বিশেষ দক্ষতায় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি অটোরিকশার দুই যাত্রীকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তাদের প্যান্টের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
আটকরা হলেন— গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া উপজেলার চর কুশলী এলাকার মৃত টুকু শিকদারের ছেলে নুর আলম শিকদার (২৯) এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর এলাকার গফফার শেখের ছেলে রিজাউল শেখ (৩৮)।
একই সময়ে রেজুখাল চেকপোস্টে আরও একটি অভিযানে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি অটোরিকশা তল্লাশি করে সন্দেহভাজন যাত্রী ছৈলামং চাকমা (৪০) কে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার পায়ুপথের মাধ্যমে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। আটক ছৈলামং চাকমার বাড়ি উখিয়ার বালুখালী এলাকার তেলখোলা গ্রামে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট ও জব্দকৃত মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, রামু সেক্টরের অধীন কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।