বিশ্বের মানচিত্রে একমাত্র ব-দ্বীপ বাংলাদেশ। আর এই দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভেতর প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদপুষ্ট জনপদ হলো মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, পানের বরজ আর লবণের মাঠ ঘেরা এই দ্বীপটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক চরম ভোগান্তির নাম— ‘মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথ’। ৪ লাখ মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই মাধ্যমটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিন্ডিকেটের কবলে পর্যটন ও অর্থনীতি
অভিযোগ উঠেছে, মহেশখালী জেটি ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী স্থানীয় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটকরাও। মাত্র ১২-১৩ কিলোমিটারের এই নৌপথে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের পোহাতে হয় নানা হয়রানি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন এবং ইজারাদারদের অশালীন আচরণ যেন এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। অনেক পর্যটক পাহাড় আর সমুদ্রের রূপ উপভোগ করতে এসে ঘাটের অব্যবস্থাপনা দেখে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন।
১)প্রশাসনের ‘অদ্ভুত’ নীরবতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটের এই নৈরাজ্য প্রশাসনের চোখের সামনে ঘটলেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন— এই সিন্ডিকেটের খুঁটির জোর কোথায়? ৪ লাখ মানুষের আর্তনাদ কি প্রশাসনের কানে পৌঁছায় না?
২)মেগা প্রকল্পের দ্বীপ, অবহেলিত যোগাযোগ
বর্তমানে মহেশখালীতে বাস্তবায়িত হচ্ছে হাজার হাজার বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প। গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র— দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করছে এই দ্বীপ। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এত উন্নয়নের ভিড়ে একটি সেতুর অভাবে কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে আছে এই জনপদ।
“প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের ইশতেহারে মহেশখালী-কক্সবাজার সেতুর প্রতিশ্রুতি থাকে। কিন্তু ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি অমাবস্যার চাঁদ হয়ে যায়।” — ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জনমনে প্রশ্ন জাগে “সেতু কি আদৌ হবে?”
মহেশখালীর সাধারণ মানুষ এখন সন্দিহান। এই সেতু না হওয়ার পেছনে কি শুধু ভৌগোলিক কারণ, নাকি এর পেছনেও কাজ করছে শক্তিশালী সেই নৌ-সিন্ডিকেট? যারা চায় না এই জনপদের মানুষ সহজে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হোক।
পাহাড়, লবণ আর পানের এই দ্বীপটি কি আজীবন এভাবেই অবহেলিত থাকবে? নাকি প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এই ঘাট এবং দৃশ্যমান হবে বহুল প্রতীক্ষিত সেই সেতু? এই প্রশ্ন এখন মহেশখালীর প্রতিটি ঘরে ঘরে