টেকনাফে প্রতিনিধি: মিসবাহ উল্লাহ,
টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এলজিইডি (LGED) সড়কটির দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা এই সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের এই যাতায়াত সংকট, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুম্মাপাড়ার প্রধান সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য বিপজ্জনক গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে একাকার হয়ে যায়, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য সরাসরি এক ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কিংবা দৈনন্দিন কাজের জন্য জরুরি যাতায়াতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা একের পর এক আশ্বাসের বন্যা ভাসালেও নির্বাচনের পর তা আর আলোর মুখ দেখে না। তারা নিজেদের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত থাকলেও জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তাদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায় না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এমন নীরবতা ও উদাসীনতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেই মনে করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিরাপত্তাহীনতা আর এই বেহাল রাস্তার কারণে চরম দুর্ভোগে আছি, অথচ আমাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। নেতারা ব্যস্ত থাকেন শুধু নিজেদের স্বার্থ নিয়ে। ভোটের সময় কত মিষ্টি কথা, অথচ কাজের বেলায় সবাই নিখোঁজ।”
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সড়কটির দ্রুত সংস্কার ও এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে জুম্মাপাড়াবাসী। একইসঙ্গে অবিলম্বে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।