
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ শত শত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগ আসায় দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি অভিযোগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ অভিযোগ বেনামি হলেও কয়েকটিতে অভিযোগকারীর নাম-পরিচয় উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস: গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণের অর্থ আত্মসাৎ, নিজের নামে ট্রাস্ট গঠন করে তহবিলের অপব্যবহার, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারী ও গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা এসব অভিযোগ করেছেন।
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক ও সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে দুর্নীতি। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে জামিন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পদায়নে ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি, বিশেষ করে সামিট গ্রুপের সঙ্গে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
অন্যান্য উপদেষ্টা: সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগসহ স্বাস্থ্য, অন্যান্য খাতের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের পরিমাণ এত বেশি যে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালকসহ বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা উচিত।
এদিকে, নতুন সরকারের অধীনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুদকের তদন্তের অগ্রগতি দেশবাসীর নজরে রয়েছে।