ইসলামাবাদ, ২৬ জানুয়ারি:
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালনা ও উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভারতের কূটনৈতিক চাপের ভূমিকা থাকতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে UAE প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাম্প্রতিক ভারত সফরের পরেই এই ঘটনা ঘটায়।
পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরকে আধুনিকীকরণ ও পরিচালনার জন্য UAE-এর আবু ধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। চুক্তি অনুসারে, UAE বিমানবন্দরের অপারেশনস, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্প্রসারণে সহায়তা করত, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবু ধাবি এই প্রকল্প থেকে পিছু হটে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
জানা গেছে, UAE-এর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের যোগাযোগ থাকতে পারে। UAE প্রেসিডেন্টের ভারত সফর মাত্র তিন ঘণ্টার ছিল, কিন্তু এর মধ্যেই দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে, UAE-এর এই পদক্ষেপকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে UAE যেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য এই খবরকে অস্বীকার করে বলেছে যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, এবং তারা এখন বিমানবন্দরটিকে প্রাইভেটাইজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা খোলা নিলামের মাধ্যমে বিমানবন্দরের পরিচালনা হস্তান্তর করব, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।” কিন্তু এই ঘটনা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় বাধা সৃষ্টি করেছে, কারণ UAE-এর মতো ধনী দেশের সহায়তা ছিল তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিকেও প্রভাবিত করতে পারে। UAE-এর সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কে ফাটল দেখা যাচ্ছে, এবং ভারতের সঙ্গে UAE-এর ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি বিমানবন্দরের চুক্তি নয়, বরং অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যের ইঙ্গিত।
পাকিস্তান এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, কিন্তু UAE-এর মতো শক্তিশালী অংশীদারের অভাবে পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জ বাড়বে।