• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
টেকনাফে অস্ত্রসহ কুখ্যাত ‘ডন রাসেল’ আটক: ৮ মামলার আসামির কাছে মিলল বিদেশি পিস্তল ঈদগাঁওয়ে ৩ কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন কাজের উদ্বোধন কক্সবাজারের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ ১জন কুখ্যাত মানবপাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। রামুতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর গভীর ষড়যন্ত্র! শ্মশানের ফটকে জঘন্য আস্পর্ধা, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি” সাংবাদিকতার নীতি যখন আইসিইউতে: একটি বিপন্ন পেশার আর্তনাদ-লিখেছেন, আজিম নাহিদ।  উখিয়া সীমান্তে বিজিবি’র অভিযান: ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হোয়াইক্যং চেকপোস্টে ৮ হাজার ইয়াবাসহ চালক আটক, সিএনজি জব্দ কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চলমান বন বিভাগের কঠোর অভিযান উখিয়ায় অবৈধ পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, ৩ লাখ টাকা জরিমানা উখিয়ায় ৮ এপিবিএনের অভিযানে ৬ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক

বৈশাখের গরমে বিদ্যুৎ বিহীন কক্সবাজার: দিনে–দিনে লোডশেডিং, পর্যটন খাতে ধসের আশঙ্কা

কক্সবাজার প্রতিনিধি। / ৩১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ককসবাজার প্রতিনিধি

বৈশাখের তীব্র খরতাপের মধ্যে ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতিতে কার্যত অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৬৫ শতাংশ। সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় দৈনিক প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পিক আওয়ারে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৫৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১০১ মেগাওয়াট, ফলে ৩১ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়ে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মকবুল আলম জানান, জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এখানে পড়েছে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

জানা গেছে, শহরের প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের গনি জানান, সকাল ১১টা থেকে দুপুর এবং সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। খুরুশকুল উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে আংশিক বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও তা বাতাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতে। কক্সবাজারের প্রায় ৫০০ হোটেল ও রিসোর্টে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। কলাতলী এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মুকিম খান বলেন, দিনে ৩ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে; অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করছেন।

রু-পাল আবাসিক হোটেলের তত্ত্বাবধায়ক সালাহ উদ্দিন জানান, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। ডিজেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে।

অন্যদিকে, মহেশখালীর মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও কয়লার সংকট দেখা দিয়েছে। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ কেন্দ্রটির উৎপাদন বর্তমানে ১৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কক্সবাজারের জনজীবন ও পর্যটন খাত আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd