টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পসহ পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক সাঁড়াশী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানকালে অস্ত্র ও গুলিসহ একাধিক হত্যা ও অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় এক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অনলাইলে জুয়াড়িসহ মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ ২৩ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত এ সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা পুলিশ, এপিবিএন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার, র্যাব, সিআইসি অফিস এবং টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানে ২৩০ জন অফিসার ও ফোর্স অংশ নেন। ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অপহরণকারী, চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার ও অবৈধ মালামাল উদ্ধারে এ অভিযান চালানো হয়।
এক নজরে অভিযানের তথ্য:
অংশগ্রহণকারী বাহিনী: জেলা পুলিশ, এপিবিএন, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার, র্যাব, সিআইসি ও উপজেলা প্রশাসন (মোট ২৩০ জন সদস্য)।
প্রধান সাফল্য: ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি জিয়াউর রহমান গ্রেফতার।
উদ্ধারকৃত মালামাল: ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড কার্তুজ এবং ২২ পিস ইয়াবা।
মোট আটক: ১৭ জন।
পালানোর সময় ধরা খেল শীর্ষ সন্ত্রাসী
অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। নয়াপাড়া ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের মাঠ সংলগ্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে টেকনাফের কুখ্যাত ‘ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য ও শীর্ষ অপহরণকারী জিয়াউর রহমানকে (পিতা: আলী আহম্মদ, নয়াপাড়া মোচনী রোহিঙ্গা রেজিষ্টার্ড ক্যাম্প, ব্লক-এইচ, এমআরসি নং-১৯৬১৩) আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১টি দেশীয় ওয়ান শুটার গান ও ১৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণপূর্বক হত্যা এবং চাঁদা দাবিসহ অন্তত ৫টি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
একই অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন ও মাদক মামলার ১ জন আসামিসহ অনলাইন জুয়া খেলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও ১৪ জনকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃতদের মধ্যে অনলাইন জুয়াড়িদের টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত:
০৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
০৯ জনকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনকল্যাণমূলক সশ্রম কাজে নিয়োজিত করার আদেশ দেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।